দেশে ভেনামি চিংড়ি চাষে পোনা আমদানির নতুন ও বিদ্যমান সব ধরনের অনুমোদন স্থগিত করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মো. মামুন হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে ভেনামি চিংড়ি চাষের পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত ৭ জানুয়ারি একটি উচ্চপর্যায়ের সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সভায় জানানো হয়, ভেনামি চিংড়ি একটি আমদানিনির্ভর প্রজাতি। এর পোনা আমদানির কারণে রোগ সংক্রমণ, পরিবেশ দূষণ এবং দেশীয় বাগদা ও গলদা চিংড়িসহ স্থানীয় প্রজাতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ভেনামি চিংড়ি চাষের অবাধ সম্প্রসারণ সমীচীন নয় বলে সভায় অভিমত দেয়া হয়।
আলোচনায় ভেনামি চিংড়ি চাষকে নিয়ন্ত্রিত, নিবিড় ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া এরই মধ্যে অনুমোদনপ্রাপ্ত ভেনামি চাষীদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি ও চাষের শর্তাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালন হচ্ছে কি না- তা সরেজমিন মূল্যায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়। পাশাপাশি মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভেনামি চিংড়ি চাষে পোনা আমাদানির নতুন ও বিদ্যমান সব অনুমোদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়, ভেনামি চিংড়ি চাষের পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিরূপণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা এবং এর ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর প্রজাতির পরিবর্তে দেশীয় বাগদা ও গলদা চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি এবং চাষ সম্প্রসারণে উপযুক্ত প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট জেলার মৎস্য কর্মকর্তারা ছিলেন।