ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমার উদ্ভাবনী ধারণা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৯ লাখ টাকা) পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইউএনডিপি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে হোটেল পূর্বাণীতে আয়োজিত ‘ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সর্বোচ্চ দুটি প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপি’র মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ফাউন্ডেশনের এমডি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, “এই ফান্ড নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত উদ্ভাবনী বীমা সমাধানকে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-এর সদস্য মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক এবং ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম হাসান সাত্তার।
অনুষ্ঠানে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ হলেও অর্থায়নের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। দেশের ১ কোটি ১৮ লাখ সিএমএসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি ব্যাংক ঋণ পান মাত্র ৯ শতাংশ। ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পান ১৪ শতাংশ। বাকি প্রায় ৭৭ শতাংশ উদ্যোক্তাই এখনও প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের আওতার বাইরে। এই বড় অংশকে ঋণ সুবিধার আওতায় আনতে তাঁদের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানসমূহ এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপি’র ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০% শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশই এই খাতে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা নিয়েছেন প্রায় ২০ লাখ উদ্যোক্তা, যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী।