এনবিআরকে বিএসএফআইসির চিঠি

চিটাগুড় আমদানিতে কড়াকড়ির অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজস্ব
ডিসেম্বর ২, ২০২৫
চিটাগুড় আমদানিতে কড়াকড়ির অনুরোধ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় চিটাগুড় আমদানি নিরুৎসাহিত করার পক্ষে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। স্থানীয় চিটাগুড় বিক্রি বাড়াতে ও অবৈধভাবে আমদানি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

চিঠিতে বলা হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান বিএসএফআইসি সরাসরি আখ থেকে চিনি, চিটাগুড়, প্রেসমার্ড এবং ব্যাগাছ উৎপাদন ও বাজারজাতকারী দেশের একমাত্র সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রতিটি মৌসুম তথা নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত আখ মাড়াই করে স্বাস্থ্যসম্মত, ক্ষতিকর কেমিক্যালমুক্ত ও ভোক্তা সমাদৃত চিনি, উৎকৃষ্টমানের চিটাগুড়, প্রেসমার্ড থেকে জৈবসার ও ব্যাগাছ উৎপাদন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২০২৪-২৫ মাড়াই মৌসুমের উৎপাদিত চিটাগুড় বিক্রির পর বর্তমানে চিনিকলগুলোতে প্রায় ১৯ হাজার ৬৮৫ টন মজুত রয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুম শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে ৮ লাখ ৫০ হাজার টন আখ মাড়াই করে আরও আনুমানিক ৩২ হাজার ১৩০ টন চিটাগুড় উৎপন্ন হবে।

বিএসএফআইসি বলছে, শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি নিয়ে দেশীয় ব্যবসায়ীরা ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল থেকে চিটাগুড় আমদানি করায় দেশীয় সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত উন্নতমানের চিটাগুড় বিক্রি বিঘ্নিত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে আমদানি শুল্ক না দিয়ে চিটাগুড় আমদানির ক্ষেত্রে এনওসি বা অনাপত্তি প্রদানে নিরুৎসায়িত করার অনুরোধ করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যথাযথ পদক্ষেপে বর্তমানে বিএসএফআইসির চিটাগুড়ের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। এখন মাড়াই মৌসুম শুরু হয়েছে। এ সময়ে এনওসি বা অনাপত্তি দেওয়া হলে অসম প্রতিযোগিতার কারণে এ সংস্থার চিটাগুড় বিক্রি কার্যক্রম দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।

চিঠিতে বলা হয়, অধিক মুনাফালোভী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে এনবিআরের আমদানি শুল্ক না দিয়ে গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে বাজারজাত করে এবং বেসরকারি চারটি ডিস্টিলারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র খামারিদের সরবরাহ করে থাকে। এতে সরকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএসএফআইসি আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। চিটাগুড় বিক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন খামারগুলো টেন্ডারে অংশগ্রহণ না করেও সব চিনিকল থেকে তাদের প্রয়োজনমতো চিটাগুড় সরাসরি ক্রয় করতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থ ও বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় রোধে স্বাভাবিক বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য আমদানিকারকদের বিএসএফআইসির চিটাগুড় কিনতে উদ্বুদ্ধ করা দরকার। এ জন্য শুল্কমুক্ত বা ন্যূনতম শুল্কে অনাপত্তির মাধ্যমে চিটাগুড় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

রাজস্ব'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ