“শ্রবণ শক্তি রক্ষা কর, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত কর”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রায়ের বাজারের ৬টি স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো সপ্তাহব্যাপী জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন। ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট ও ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর উদ্যোগে এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড এর সার্বিক সহায়তায় এই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে রায়ের বাজার এলাকার ছয়টি স্কুল—ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুল, লরেল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, কনফিডেন্স মেমোরিয়াল হাই স্কুল, শের-ই বাংলা আইডিয়াল স্কুল ও ইমপিরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন মানুষের স্বাভাবিক শব্দ সহনশীলতা মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল হলেও, ঢাকার অনেক এলাকায় এই মাত্রা পৌঁছে গেছে ১০৬ ডেসিবেল পর্যন্ত, যা শ্রবণশক্তি হ্রাসসহ হৃদরোগ, ঘুমের ব্যাঘাত, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
প্রতিটি কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ছিলো চিত্রাঙ্কন, পোস্টার প্রদর্শনী, শিক্ষামূলক আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। তারা শব্দদূষণ সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন এবং সচেতনতামূলক বার্তা বহন করে এমন বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে র্যালিতে অংশ নেন।
ক্যাম্পেইনে গাড়ি চালকদের উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ আহ্বান জানানো হয়—যেমন:যানজটে অপ্রয়োজনে হর্ন না বাজানো; হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিকট হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকা; শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুসরণ করা; হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার না করা; নো-হর্ন সাইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করা।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শব্দদূষণ রোধে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, বরং জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও মানসিক পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য শব্দদূষণ ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে সচেতনতার বীজ বপন করা সম্ভব হয়েছে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।