আইসিসিবির মত

স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্যাংক-বীমা
জানুয়ারী ২০, ২০২৬
স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ায়
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ব্যাংকিং খাত একটি মূল ভিত্তি। এই খাত জাতীয় সঞ্চয় সংগ্রহ করে। বিনিয়োগে অর্থ সরবরাহ করে। বাণিজ্য অর্থায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করে। বাংলাদেশ যখন উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগোচ্ছে, তখন ব্যাংকিং খাতের শক্তি, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতা এবং এ খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকারিতা দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে অনেকাংশে নির্ধারণ করবে।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) সংগঠনের ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এমন মত দিয়েছে। 
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি স্বাধীনভাবে, ন্যায্যভাবে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পারে, তাহলে আর্থিক চাপ মোকাবিলা করা সহজ হয় এবং অর্থনীতিতে আস্থা বজায় থাকে। একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও দক্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করে তোলে, সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ায় এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হয়। বিশ্ব অভিজ্ঞতা বলছে, যে কোনো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি শক্তিশালী, পেশাদার ও স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপরিহার্য। বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু মুদ্রানীতি প্রণয়নই করে না; পাশাপাশি ব্যাংক তদারকি, সংকট ব্যবস্থাপনা, পেমেন্ট সিস্টেমের তদারকি এবং আর্থিক খাতে আস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আইসিসিবির মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সমস্যা হলো খেলাপি ঋণের উচ্চমাত্রা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকের মূলধন দুর্বল করে, ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমায়, ঋণের সুদহার বাড়ায়, নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে এবং শেষ পর্যন্ত আমানতকারী ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকগুলো এখন তাদের হিসাব প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট ও সঠিকভাবে তুলে ধরতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে আর্থিক খাতের দুর্বল দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং বোঝা যাচ্ছে, আর্থিক শৃঙ্খলা, সঠিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ভালো শাসনব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে একটি সুস্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত খেলাপি এবং প্রকৃত ব্যবসায়িক সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যাতে টিকে থাকার সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো কাঠামোবদ্ধ সহায়তা পায়, আর ইচ্ছাকৃত আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আইসিসিবি মনে করে, ২০২৫ সালের ব্যাংক রেজলিউশন অধ্যাদেশ, যা সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি কাঠামোগত সমাধান ব্যবস্থা তৈরি করেছে। 

ব্যাংক-বীমা'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ