ভিশনস্প্রিং কমিউনিটি-ভিত্তিক রিডিং গ্লাসেস উদ্যোগ

দেশে দেড় কোটির বেশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক | খবর
জুলাই ২৯, ২০২৬
দেশে দেড় কোটির বেশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা
রাজধানীর বনানীতে ক্লাব নটরডেমিয়ানস-এ মঙ্গলবার ভিশনস্প্রিং-এর প্রেস ব্রিফিং। ছবি : উদ্যোগনিউজ

# ৪২ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ
# ৩৫ লাখ মানুষের হাতে পৌঁছেছে রিডিং গ্লাস
# আগামী এক বছরে আরও ৩০ লাখ মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার লক্ষ্য

 

দেশে কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে চক্ষুসেবায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে আন্তর্জাতিক সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ভিশনস্প্রিং। সংস্থাটির ‘রিডিং গ্লাসেস ফর ইমপ্রুভড লাইভলিহুডস (আরজিআইএল)’ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫৭ লাখের বেশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৫ লাখ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় রিডিং গ্লাস। আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ৩০ লাখ মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং ১০ লাখ মানুষের হাতে রিডিং গ্লাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্লাব নটরডমেয়িানস

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বনানীতে ক্লাব নটরডেমিয়ানস-এ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভিশনস্প্রিং জানায়, ২০০৬ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সংস্থাটি ৪২ হাজার কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী দেশের ৬৪ জেলায় মানুষের দোরগোড়ায় মৌলিক চক্ষুসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। বয়সজনিত কারণে কাছের জিনিস স্পষ্টভাবে দেখতে না পারার সমস্যা বা প্রেসবায়োপিয়ায় আক্রান্ত মানুষের জন্য রিডিং গ্লাস সরবরাহের মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সংস্থাটি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় ৩৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী প্রতি দুজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কাছের জিনিস দেখতে সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, চিকিৎসার ব্যয় এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞের স্বল্পতার কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় রিডিং গ্লাস থেকে বঞ্চিত থাকেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিচালিত আরজিআইএল কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদভাবে মানুষের নিকটদৃষ্টি পরীক্ষা করেন। যাদের শুধু কাছের লেখা পড়া বা সূক্ষ্ম কাজ করতে সমস্যা হয়, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ছাড়াই রিডিং গ্লাস দেওয়া হয়। আর দূরের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, ছানি, গ্লুুকোমাসহ জটিল রোগের লক্ষণ দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চক্ষু হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়।
আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন স্থানে দৃষ্টি পরীক্ষা ক্যাম্প পরিচালনা করছেন। সেখানে মাত্র ১৫০ টাকায় প্রয়োজনীয় রিডিং গ্লাস সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা।
ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন বলেন, কাছের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সমাধান কঠিন নয়, প্রয়োজন কার্যকর কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ। ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর এ অর্জন প্রমাণ করে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়াই রিডিং গ্লাস দেওয়া সম্ভব- এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে স্বাস্থ্যসেবার একটি বড় ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। এতে মানুষের কর্মক্ষমতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।
মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ভিশনস্প্রিং ‘ক্যাটালআইজ’ (CatalEYES) নামে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ মডেল ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বিদ্যমান কমিউনিটি কর্মসূচির সঙ্গে নিকটদৃষ্টি পরীক্ষা ও রিডিং গ্লাস বিতরণ কার্যক্রম যুক্ত করতে পারছে।
বর্তমানে ব্র্যাক, সাজেদা ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড পারপাসসহ বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারের সহযোগিতায় দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দৃষ্টিসেবা পৌঁছে দিচ্ছে সংস্থাটি।
 

খবর'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ