কপে মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণ দরকার: মৎস্য উপদেষ্টা

উদ্যোগ ডেস্ক | কৃষি ও প্রাণীসম্পদ
নভেম্বর ৪, ২০২৫
কপে মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণ দরকার: মৎস্য উপদেষ্টা

জাতিসংঘের বৈশ্বিক জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন কনফারেন্স অব পার্টিসে (কপ) শুধু পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব দিয়ে কাজ হবে না। বরং নারী ও শিশু, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণ দরকার। সবাইকে নিয়ে সমন্বিত কমিটি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

মন্ত্রণালয়টি এবারই প্রথম কপে অংশ নিতে যাচ্ছে। সে বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য ‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে কপ৩০:প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে  রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রণালয়টির সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবেরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

 

উপদেষ্টা ফরিদা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা আসলে শুধু পরিবেশের কথা বলা হয়। অথচ সেখানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ক্ষতিও বড় ধরনের হয়ে থাকে। আমাদের এসব বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরতে হবে।

এর আগে ১৯৯২ সালের কপে অংশ নেওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, তখন আমরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছিলাম।

তিনি বলেন, আগে আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। তারপর উন্নয়নশীল আর এখন এলডিসি থেকে উত্তরণ হচ্ছে। সেক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে।

তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ করে ধনী দেশগুলো পরিবেশের ৮০ ভাগ ক্ষতি করছে, সেখানে গরিব দেশগুলোর অংশ মাত্র তিন ভাগ দায়ী। অথচ ভুক্তভোগীর দিক থেকে আমরা গরীব দেশগুলো ৮০ ভাগ ক্ষতির সম্মুখীন। সার্বিকভাবে বিচার করলে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে। ইতিপূর্বে ধনী দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কমানোর দেওয়া কথা রাখেনি। বরং তারা নতুন নতুন শব্দ যুক্ত করে দায় থেকে পেছাচ্ছে।

তিনি বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে প্রাণিকূলও কষ্টে পায়। সে ক্ষেত্রে কপে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অংশ নিয়ে কথা বলা দরকার।

দেশীয় জাতগুলো রক্ষার ব্যাপারে ফরিদা আখতার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাণিগুলোর যে ডাইভার্সিটি আছে সেগুলোকে রক্ষা করতে পারছি না। আমরা শুধু ভিকটিমের কথা না বরং আমাদের প্রাণিগুলোকে রক্ষার জন্য টাকা চাইÑ এ কথাগুলো কপে তুলে ধরতে হবে। ধনী ও গরিবদের জীবনযাত্রা পার্থক্য তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহারে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়টির অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর। এ সময় ‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (COP-30)’ এর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা এবং ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি ও প্রাণীসম্পদ'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ