বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

রপ্তানি প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্যাংক-বীমা
জানুয়ারী ১৪, ২০২৬
রপ্তানি প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাকি ছয় মাসের জন্য রপ্তানি প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত থাকছে। বিদ্যমান ৪৩ ধরনের পণ্যে এ সহায়তা দেওয়া হবে। গতকাল এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুই ধাপে রপ্তানি প্রণোদনার হার কমানো হয়েছিল।

চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হওয়ার কথা। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় থাকা কোনো দেশ নগদ সহায়তা দিতে পারে না। যে কারণে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে প্রণোদনার হার কমানো হয়। চলতি অর্থবছরে আরও কমানোর কথা থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তা অপরিবর্তিত রয়েছে। সেই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে আরও সময় চাওয়ার জোর দাবিও উঠেছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা থাকছে দেড় শতাংশ। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা শূন্য দশমিক ৫০ এবং নিট, ওভেন, সোয়েটারসহ তৈরি পোশাকের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ অব্যাহত থাকছে। বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য বা নতুন বাজার সম্প্রসারণ সুবিধা ২ শতাংশ এবং তৈরি পোশাকের বিশেষ নগদ সহায়তা শূন্য ৩ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটপণ্যে নগদ সহায়তা ১০, পাটজাত চূড়ান্ত দ্রব্যে ৫ এবং পাটের সুতায় নগদ সহায়তা ৩ শতাংশ থাকবে। চামড়াজাত দ্রব্যে ১০ এবং ফিনিশড ও ক্রাস্ট লেদারে ৬ শতাংশ। ওষুধের কাঁচামালে ৫, হালাল মাংসে ১০, হিমায়িত চিংড়িতে ৪ থেকে ৮ এবং অন্যান্য মাছে দেড় থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ। কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং আলু, হালকা প্রকৌশলে ১০ শতাংশ। এ ছাড়া মোটরসাইকেল, ফার্মাসিউটিক্যালস, রেজার ও রেজার ব্লেড, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস, পেট বোতল ফ্লেক্স, জাহাজ, প্লাস্টিক দ্রব্য, হাতে তৈরি পণ্য, দেশে উৎপাদিত কাগজ, গার্মেন্টের ঝুট, গরু, মহিষের নাড়ি-ভুঁড়ি, শিং ও রগ, কাঁকড়া-কুঁচিয়াতে ৬ শতাংশ।

আগের মতোই ফার্নিচার, সিনথেটিক ও ফেব্রিক্সের মিশ্রণে তৈরি পাদুকা ও ব্যাগ, পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন ও জুট পার্টিকেল বোর্ড, শস্য ও শাকসবজির বীজ, আগর, আতরে ৮ শতাংশ নগদ সহায়তা থাকছে। এটি সফটওয়্যার, আইটিইএস ও হার্ডওয়্যারে ৬ শতাংশ এবং ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের সফটওয়্যার ও আইটিএসে আড়াই শতাংশ। বিশেষায়িত অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ। দেশে উৎপাদিত চা, এমএস স্টিলে ২ শতাংশ। চাল, বাইসাইকেল ও এর পার্টস, সিমেন্টে ৩ শতাংশ। কেমিক্যাল পণ্যে ৫ এবং টুপিতে ৭ শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল থাকছে।

ব্যাংক-বীমা'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ