আশিক রেজার কবিতা আগামী দিনের সমাজবাস্তবতার পথরেখা

ডেস্ক রিপোর্ট | খবর
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
আশিক রেজার কবিতা আগামী দিনের সমাজবাস্তবতার পথরেখা

আশিক রেজার কবিতা শুধু শিল্পের প্রয়োজনে নয়, বরং সমকালীন সমাজবাস্তবতা এবং আগামী দিনের পথরেখা বুঝতেও পাঠ করা জরুরি—এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

কবি ও গবেষক আশিক রেজার নতুন দুই বই ‘ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও’ ও ‘বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ’-এর পাঠোৎসবে এ মন্তব্য করেন তারা।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় তলায় ‘কালের ধ্বনি’র উদ্যোগে এ পাঠোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ইমরান মাহফুজের সঞ্চালনায় আয়োজনে সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকেরাও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজী। প্রধান আলোচক ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

আলোচনায় অংশ নেন সম্পাদক ও গবেষক ড. কাজল রশীদ শাহীন, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ খান মো. রবিউল আলম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ আরিফ খান, অনার্য মুর্শিদ, কবি ও কথাসাহিত্যিক ফরিদুল ইসলাম নির্জন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক কবি ইব্রাহীম নিরব, কবি সানাউল্লাহ সাগর, কবি ও সাহিত্য সম্পাদক মীর হেলাল এবং কবি রাসেল আবদুর রহমান। কবিতা আবৃত্তি করেন স্বনামধন্য আবৃত্তিকার আলমগীর ইসলাম শান্ত।

সম্পাদক ও গবেষক ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, “এই বই আমাদের সবার জন্য পাঠ করা খুবই জরুরি। আমরা যদি চব্বিশকে বুঝতে চাই, চব্বিশের ব্যর্থতা কোথায়—তা যদি বুঝতে চাই, আবার চব্বিশের সার্থকতা কোথায়—সেটাও যদি বুঝতে চাই, তাহলে আমাদের এই বইয়ের কাছে ফিরে আসতে হবে।”

‘বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ’ বই প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ আরিফ খান বলেন, “এই বই প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট একটি জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছে।”

আশিক রেজার কবিতার শক্তি ও প্রতীকী ব্যঞ্জনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আশিক রেজা শক্তিশালী, বাহাদুর কবি। আগ্নেয়গিরির কাজ সারাজীবন জ্বলা নয়। যেটা সারাজীবন জ্বলে, সেটা আগ্নেয়গিরি নয়। তরুণদের বলতে হবে—এটা অভ্যুত্থানের আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয়গিরি যেমন উদ্গীরণ করে শান্ত হয়ে যায়, তার লাভা কিন্তু ঠান্ডা হয়ে যায় না। সেই লাভা সলতে; সলতেটা জ্বলছে। জ্বলা সলতের আগুনে আমাদের পথ চলতে হবে।”

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলা ভাষা নিয়ে আশিক রেজার কাজ অসামান্য দরদ ও নিষ্ঠার পরিচয় বহন করে। পৃথিবীতে বাংলাভাষার বর্তমান অবস্থা জানতে ‘বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ’ বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজী ‘ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও’ বইয়ের আশাবাদী দিক তুলে ধরে বলেন, “স্বপ্নটাকে দেখতে হবে। স্বপ্ন না দেখার কারণেই স্বপ্ন হাতছাড়া হয়ে যায়। বারবার আমরা অভ্যুত্থান করব, বারবার একটি দল যাবে, আর আমাদের স্বপ্ন হাতছাড়া হয়ে যাবে—এটা হতে পারে না। রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের স্বপ্ন যদি দেখতে না পারি, রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলের ব্যবস্থা যদি করতে না পারি, রাষ্ট্রব্যবস্থা রূপান্তরের স্বপ্ন যদি না দেখতে পারি, তবে আবার রক্ত দেব, আবার ব্যর্থ হব। রূপান্তরের স্বপ্নটা স্পষ্ট করে দেখতে হবে।”

বক্তারা বলেন, আশিক রেজার কবিতায় সমকালীন সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও মানুষের পুঞ্জীভূত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে। তার কবিতার ভাষা ও ভাবনা শুধু বর্তমানকে ধারণ করে না, বরং ভবিষ্যৎ সমাজবাস্তবতারও ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে ‘বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ’ বইটি বাংলা ভাষার বৈশ্বিক বিস্তার, বর্তমান অবস্থান এবং ভাষাটির পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা নিয়ে পাঠককে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা।

পাঠোৎসবে দুই বইয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি ও পাঠকদের মতামত গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন।

খবর'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ