শুরুটা ছিলো মাত্র ৩৫০ টাকা দিয়ে। পাঁচ বছরেই এখন পূঁজি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ টাকায়। এখন প্রতিমাসে গড়ে আয় হয় ৫০ হাজার টাকা। অ্যাকোয়ারিয়ামের রঙিন মাছ চাষ করেই বদলে ফেলেছে নিজের ভাগ্য। রঙিন মাছই তার জীবনকে এখন রঙিন করে তুলেছে।
সফলতার এ গল্প দিনাজপুর সদর উপজেলার কর্ণাই হাজিপাড়া গ্রামের ২৭ বছর বয়সী তরুণ উদ্যোক্তা ইয়াছিন আলী রাকিব-এর। মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে ইয়াছিন আলী রাকিব একসময় চাকরি করতেন বেসরকারি এক কোম্পানিতে। কিন্তু তিনি অনুধাবন করে চাকরির বাঁধনে নিজের স্বপ্ন পুরণ সম্ভব নয়। অবশেষে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০১৯ সালে মনোনিবেশ করেন নিজের মাছের খামারে। সেই সিদ্ধান্তই আজ বদলে দিয়েছে তার জীবন।
সোমবার কর্ণাই হাজিপাড়া গ্রামে রাকিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙ্গিনায় পলিথিন ও বাঁশ দিয়ে তৈরি চৌবাচ্চা। আর কংক্রিটের রিং দিয়ে তৈরি হাউস। বর্তমানে তার খামারে ৫০টি রিং-এর চৌবাচ্চায় গাপ্পি, মলি, প্লাটি, সরটেইল, জেব্রা, কই কার্প, কমেট, গোড়ামি, অ্যাঞ্জেল, টাইগার বার্ব, গ্রিন বার্ব, টেট্রা, টাইগার সার্ক, রেড কেপ, গোল্ড ফিস, পেরোট, এলগিসহ ২০ প্রজাতের রঙিন মাছ রয়েছে। তার কাছ থেকে রঙিন মাছ সংগ্রহ করেন দূর দূরান্তের ক্রেতারা। তার এই খামার থেকে সৌখিন ক্রেতাদের কাছ থেকে অনলাইনে অর্ডার পেয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পলিথিনের মধ্যে মেডিসিন ও অক্সিজেন দিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে মাছ পৌছে দিচ্ছেন। অনেক সৌখিন ক্রেতা সরাসরি এসে মাছ পছন্দ করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। খামারটি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তার মাছ কিনছেন আবার অনেকে তার কাছে মাছ নিয়ে বিক্রি করছেন অন্যন্য ক্রেতার কাছে।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহিমা আক্তার বলেন, আমি ও আমার বন্ধুরা রাকিব ভাইয়ের খামার থেকে মাছ নিয়ে অনলাইনে বিক্রি করি। এতে আমাদের পড়াশোনার খরচ চলে যায়। উনি আমাদের সবসময় সহায়তা করে থাকেন।
ইয়াছিন আলী রাকিব জানান, ২০১৯ সালে ৩৫০ টাকায় রঙিন মাছ ক্রয় করে। পর্যায়ক্রমে সেই মাছ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। পরে আস্তে আস্তে নিজের বাসার আঙ্গিনায় ছোট-বড় হাউসের পানিতে রঙিন মাছ বানিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। রাকিব বলেন, ৩৫০ টাকা দিয়ে শুরু করলেও এখন তার পূঁজি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ টাকায়। তিনি বলেন, সব খরচ বাদ দিয়ে এখন বছরে তার আয় হয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। যা প্রতিমাসে গড় আয় দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকা। রাকিব জানান, সাংসারিক খরচ বাদ দিয়ে লাভের পুরো টাকাই ব্যায় করছেন তার খামার সম্প্রসারনের কাজে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই খামারটি স্থাপনের জন্য স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
দিনাজপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শারমিন আখতার বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা ইয়াছিন আলী রাকিব সত্যিই অনুকরণীয়। নিজের উদ্যোগে বাড়ীর আঙ্গিনায় ছোট ছোট হাউসে রঙিন মাছ চাষ করে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। আমরা তাকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরী সহায়তা দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, রঙিন মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তরুনদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও যারা রঙিন মাছের খামার করতে চায়, তাদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা মৎস্য বিভাগ থেকে দেওয়া হবে।