দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি জরিপ তথ্যের চেয়েও বেশি করুণ

আবু তাহের খান | মতামত
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫
দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি জরিপ তথ্যের চেয়েও বেশি করুণ

কভিড মহামারী থেকে শুরু করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং সবশেষ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পূর্বাপর নানা রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতি কয়েক বছর ধরেই টালমাটাল। বিগত সরকারের বেলাগাম দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বজনতোষণে দেশে দেশীয় বিনিয়োগ তেমন হয়নি বরং বড় অংকের অর্থ পাচার করেছে অলিগার্ক শ্রেণী ও রাজনীতিবিদদের একাংশ। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ না হওয়ায় বিদেশী বিনিয়োগও প্রায় শূন্যের কোঠায়। আমাদের শুল্ক ও বাণিজ্য নীতি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করেছে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এতে বেকারত্ব ও ছদ্ম বেকারত্ব বাড়ছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) পরিচালিত ‘২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দেশের পরিবারসমূহের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক সর্বসাম্প্রতিক জরিপের ফলাফলে ওঠে এসেছে যে গত তিন বছরে (২০২২-২৫) দেশে দারিদ্র্যের হার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে তা এখন ২৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯০ দশকের গোড়া থেকে কভিড-পূর্ব পর্যন্ত সময়ে দেশে দারিদ্র্যের হার ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলেও তিন বছর ধরে তা যে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। অবশ্য মানুষ নিজেদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা দিয়ে এমনিতেও উপলব্ধি করছিল যে, তার অর্থকষ্ট দিন দিনই লাগামহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে পিপিআরসি জরিপের ফলাফল বস্তুত সাধারণ মানুষের সে উপলব্ধিকেই পরিসংখ্যান দিয়ে প্রত্যয়ন করল। তবে প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে পিপিআরসি জরিপের তথ্যে জনগণের আর্থিক দুরবস্থার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক বেশি করুণ।

উল্লিখিত জরিপে দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও দারিদ্র্যসীমা সন্নিহিত মানুষের হিসাব দেয়া হয়েছে। এর বাইরে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদাগুলো পরিপূরণের ক্ষেত্রে বিরাজমান পরিস্থিতির হিসাব-নিকাশও এতে রয়েছে। মোটকথা, উল্লিখিত তথ্যাদি থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে মানুষের জীবনযাপন যে এখন কতটা কষ্টময় ও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, সে সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা বা ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। তবে এর মাধ্যমে কিছুতেই সে দুর্বিষহ কষ্টের গভীরতা ও এর বাস্তব পীড়নকে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। বস্তুত সেটি বোঝার জন্য এ জাতীয় কোনো তথ্যই যথেষ্ট নয়। এজন্য আসলে প্রয়োজন সত্যিকার মানবিক উপলব্ধি এবং পীড়িত মানুষের প্রতি গভীরতাপূর্ণ মানবিক উপলব্ধি ও নিঃস্বার্থ মমতা, যা আমাদের রাষ্ট্রের পরিচালক রাজনীতিক কিংবা আমলা কারোর মধ্যেই নেই। বিষয়টি নিয়ে লেখার শেষাংশে খানিকটা আলোকপাত করা যেতে পারে।

উল্লিখিত জরিপের তথ্য থেকে রাষ্ট্র তথা এর জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাপন-প্রবণতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তার বেশির ভাগটাই অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। কিন্তু তার পরও সেখানে এমন কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা না করলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়াটা একেবারেই অনিবার্য। আর সে দৃষ্টিকোণ থেকেই এখানে কয়েকটি বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো। এক. মানুষকে যে তার আয়ের সিংহভাগই (৫৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ) খাদ্যের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে, তার জন্য মূলত দায়ী হচ্ছে অসৎ, অদক্ষ ও দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা, যা আসলে দুর্বল রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিরই ফলশ্রুতি। রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন এবং সে দুর্বৃত্ত রাজনীতির আওতায় চাঁদাবাজি, মস্তানি ও যখন-তখন মব সৃষ্টির মতো সংস্কৃতি বন্ধ না হলে হঠাৎ হঠাৎ সাময়িকভাবে আরোপিত বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থার আওতায় খাদ্য ব্যয় কখনই কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাজারে খাদ্যপণ্যের যে মূল্য, তা পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় খাদ্য-উচ্চমূল্যসম্পন্ন দেশগুলোর প্রায় কাছাকাছি। বিষয়টি আসলেই অত্যন্ত অস্বস্তিকর।

বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য ঠিক রাখার নামে রয়েছে কর-শুল্ক মওকুফের আরেক চতুর মহাবাণিজ্য। বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতির (আসলে যা কৃত্রিম ঘাটতি) আশঙ্কা দেখা দিলেই সরকার সঙ্গে সঙ্গে ওই পণ্যের আমদানি শুল্ক মওকুফ করে দেন। তাতে রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারালেও সংশ্লিষ্ট পণ্যের মূল্য প্রায় কখনই কমে না। অথচ এ প্রক্রিয়ায় মাঝখান থেকে লাভবান হয় ওই চতুর আমদানিকারকরা, যারা জুজুর ভয় দেখিয়ে শুল্ক মওকুফ কৌশলে সরকারকে বাধ্য করে। আসলে শুল্ক-কর কমিয়ে কিংবা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে পণ্যমূল্য কমানো কখনই সম্ভব নয়। পণ্যমূল্য কমাতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন কৃষক ও খাদ্যের অন্য উৎপাদকদেরকে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি থেকে রক্ষা করে সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।

দুই. পিপিআরসির জরিপ অনুযায়ী শিক্ষার পেছনে নাগরিকরা ব্যয় করছে বা করতে পারছে তাদের আয়ের মাত্র ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা তাদের চিকিৎসা-ব্যয়ের চেয়েও কম। অবশ্য বিষয়টি এমন নয় যে, শিক্ষার অধিকাংশ ব্যয় রাষ্ট্র বহন করছে বিধায় ব্যক্তিকে শিক্ষার পেছনে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না। বরং বিষয়টি এমন যে রাষ্ট্র ও ব্যক্তি কারো কাছেই শিক্ষা ব্যয় তাদের অগ্রাধিকারমূলক ব্যয়ের তালিকায় নেই। তো যে রাষ্ট্র বা তার জনগণের কাছে শিক্ষা একটি অগ্রাধিকারমূলক খাত নয়, সে দেশ যে সহসাই পিছিয়ে পড়বে, তাতে বিন্দুমাত্র কোনো সন্দেহ নেই। আমার মতে পিপিআরসি জরিপ থেকে বেরিয়ে আসা তথ্যের মধ্যে শিক্ষার পেছনে এত অল্পব্যয়ের চিত্রটিই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। সদিচ্ছা থাকলে খাদ্যমূল্য হয়তো নানা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কমিয়ে বা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু শিক্ষা ছাড়া মাথাগুনতির মানবসম্পদ বাড়িয়ে একটি জাতিকে কখনই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। মানহীন সনদসর্বস্ব শিক্ষায় শিক্ষিত জাতির সদস্যদের একটি বড় অংশের কাজই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে কোনো রকমে ক্ষুধানিবৃত্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকা এবং রাজনৈতিক কলহবিবাদে লিপ্ত থাকা। ৫৫ বছর ধরে চলে আসা ক্ষমতা কাড়াকাড়ির এই যে বিবাদ, তা বহুলাংশে বস্তুত এই শিক্ষাহীনতারই ফলশ্রুতি। শিক্ষায় ব্যয় বাড়িয়ে, বিশেষত রাষ্ট্রীয় ব্যয়, গুণগত শিক্ষার প্রসার ঘটাতে না পারলে বাংলাদেশের পক্ষে তার চলমান ধারার হানাহানি থেকে বেরিয়ে আসা কখনই সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

তিন. উল্লিখিত জরিপ অনুযায়ী চিকিৎসার পেছনে মানুষ ভগ্নাংশের হিসাবে শিক্ষার চেয়ে কিছুটা বেশি ব্যয় করলেও তা শিক্ষা ব্যয়ের মতোই অপ্রতুল—মাত্র ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। তবে এ ক্ষেত্রে জরিপে যেটি ওঠে আসেনি তা হচ্ছে, এ স্বল্প চিকিৎসা ব্যয়েরও একটি বড় অংশই আবার মূল চিকিৎসা ব্যয় নয়—আনুষঙ্গিক ব্যয়, যার মধ্যে রয়েছে যাতায়াত, সাময়িক আবাসন, রোগী-সহযোগীর আহার ও অন্যান্য। অর্থাৎ নাগরিকদের প্রকৃত চিকিৎসা ব্যয় জরিপে ওঠে আসা পরিমাণের চেয়েও অনেক কম। তো চিকিৎসার পেছনে এত যৎসামান্য অর্থ ব্যয় করে গড়ে ওঠা একটি রুগ্‌ণ জাতির পক্ষে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনাময় চিন্তাভাবনায় যুক্ত হওয়া, জ্ঞানভিত্তিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদান করা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়া, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ মাত্রার অবদান রাখা ইত্যাদি কি কোনোদিনও সম্ভব? এ প্রসঙ্গে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, দেশে বর্তমানে যে পরিসরে ওষুধ শিল্পের বিকাশ ঘটেছে, তাতে স্থানীয় বাজারের জন্য ওষুধের মূল্য আরো অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব, যা উচ্চ রফতানি আয়ের মাধ্যমে সহজেই পুষিয়ে নেয়া যেতে পারে।

চার. আলোচ্য জরিপের তথ্যে জনগণের জীবনযাপনের ব্যয় ও এ-সংক্রান্ত পরিস্থিতি শহরের তুলনায় গ্রামে কিছুটা ভালো বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে জরিপ-তথ্য সংগ্রহের মধ্যে কিছুটা ত্রুটি ও বিভ্রান্তি রয়েছে বলে মনে করি। গ্রামের মানুষ নগদ অর্থ ব্যয়ের বাইরে নিজের উৎপাদিত যে খাদ্য ভোগ করে, ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে তার সবটাই ও সঠিক পরিমাণে উল্লেখ করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই জাতীয় লুক্কায়িত ব্যয় এর সঙ্গে যোগ করা হলে গ্রামীণ মানুষের জীবনযাপনের প্রকৃত ব্যয় আরো অনেকখানি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তদুপরি গ্রামীণ পরিবারগুলোকে তার শহুরে সদস্যরা যে পরিমাণে পরোক্ষ আর্থিক সহায়তা (খাদ্য, জামাকাপড়, শহরে অবস্থানকালীন চিকিৎসা ব্যয় ইত্যাদি) প্রদান করে, সেটিও এখানে ব্যয়ের হিসাবে যুক্ত হয়েছে বলে মনে হয় না। মোটকথা, গ্রামের মানুষ শহরের মানুষের চেয়ে কোনো অংশেই ভালো নেই।

পাঁচ. জরিপের তথ্যে অত্যন্ত অনুমিতভাবেই ওঠে এসেছে যে কর্মজীবী মানুষদের ৩৮ শতাংশই ছদ্মবেকার। আমার ধারণা এ বিষয়টির ওপর এককভাবে জরিপ চালালে ও এক্ষেত্রে আরো গভীরতর উপাত্তসংগ্রহ কৌশল ব্যবহার করতে পারলে ছদ্মবেকারের সংখ্যা আরো বহুলাংশে বেড়ে যাবে। তাছাড়া এ ছদ্মবেকাদের একটি বড় অংশই বস্তুত নিয়োজিত রয়েছে কৃষি খাতে। ফলে কাগজে-কলমে গ্রামীণ ভোগব্যয় ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির যে চিত্র আমাদের সামনে রয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল ও হতাশাব্যঞ্জক। এমতাবস্থায় যে কোনো নতুন কর্মসংস্থান কর্মসূচি গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাম তথা কৃষি খাতে বিরাজমান ছদ্মবেকারত্বের বিষয়টিকে বিশেষ বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি।

পিপিআরসি জরিপের এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ ও প্রয়োজন দুই-ই রয়েছে। কিন্তু এ স্বল্প পরিসরের আলোচনায় সেটি সম্ভব নয় বলে এখানে সংক্ষেপে শুধু কয়েকটি সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হলো: ক. ২০২৫-৩০ মেয়াদি প্রস্তাবিত নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা যেহেতু বাতিল করা হয়েছে, সেহেতু আপাতত চলতি অর্থবছরের আওতাধীন দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। পরবর্তী কর্মসূচিগুলো নয়া নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে এসে প্রণয়ন করতে পারে। খ. যেসব সংস্কার গত ১৩ মাসে হয়নি, সামনের ৫ মাসে (যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়) তার আর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমতাবস্থায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য সম্ভাব্য দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি ও কর্মকৌশল নির্ধারণের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। তবে এটি যেন শুধু তাত্ত্বিক অর্থনীতিবিদ ও এনজিওদের কমিটি হয়ে না যায়। গ. নিকট ভবিষ্যতের দারিদ্র্য বিমোচনমূলক কর্মসূচিতে গ্রাম, কৃষি খাত, ক্ষুদ্র উৎপাদন শিল্প ইত্যাদি যেন বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। ঘ. আয়বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে অবিলম্বে রাষ্ট্রের আর্থিক ও অর্থনৈতিক নীতিকৌশলে ব্যাপকভিত্তিক পরিবর্তন আনা জরুরি, যার মধ্যে উৎপাদন খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান, নগদ প্রণোদন প্রথা বাতিলকরণ, বাজেটের বাইরে যেয়ে নির্বাহী সিদ্ধান্তে যখন-তখন কর ও শুল্ক মওকুফ করার রীতি বন্ধ করা ইত্যাদি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ঙ. সম্পদের অপরিমিত ব্যবহার রোধকল্পে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ঘোষণাভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল থেকে বিরত থাকতে হবে।

পরিশেষে বলব, দেশে বিরাজমান দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতিরোধ ও তা থেকে পরিত্রাণের উপায় খোঁজার জন্য পিপিআরসি জরিপের তথ্যাদি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর স্থায়ী সমাধান চাইলে এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা কর্তৃক তাদের বোধ ও উপলব্ধিতে বিষয়টিকে মমতা ও বিবেক দিয়ে ধারণ করা, যা লেখার শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান সরকার কিংবা আগামীদিনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন বলে আশা করেন—তাদের কারো চিন্তা ও আচরণে কি উল্লিখিত মমতা ও আচরণের বিন্দুমাত্র কোনো বহিঃপ্রকাশ চোখে পড়ে?

আবু তাহের খান: অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি; সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়।

সূত্র- বণিক বার্তা

মতামত'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ